Car maintenance cost


গাড়ি কেনার আগে Car Maintenance Cost per month অর্থাৎ প্রতি মাসে গাড়ির পেছনে কত খরচ হয় সে সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। মডেল ভেদে গাড়ির মেইন্টেইনেন্স কস্ট বিভিন্ন অংকের হয়। এই পোস্টে ছোট ও মাঝারি সাইজের গাড়ির মাসিক মেইন্টেইনেন্স কস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। মাসে একটি গাড়ির পেছনে কত খরচ হবে তা কতগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল। 

গাড়ির মাসিক খরচ কি কি বিষয়ের উপর নির্ভর করে?

১. ইঞ্জিন অয়েল। 

২. অয়েল ফিল্টার। 

৩. এয়ার ফিল্টার। 

৪. এসি / কেবিন ফিল্টার। 

৫. গিয়ার অয়েল। 

৬. ব্রেক অয়েল।

৭. স্টিয়ারিং অয়েল।

৮. রেডিয়েটর।

৯. চাকা।

১০. গাড়ি ওয়াশিং ও গ্লাস ক্লিনার।

১১. ড্রাইভারের বেতন, খাবার ও বাসস্থান।

১২. গাড়ির ট্যাক্স।

ইঞ্জিন অয়েল

একটি  গাড়ি ৫,০০০ কিলোমিটার অতিক্রম করলে  ইঞ্জিন তেল পরিবর্তন করতে হয়। তবে আপনি কি ধরনের অয়েল ব্যবহার করেন তার উপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার পরও অয়েল চেঞ্জ করতে পারবেন।

এখন শুধু Toyota Corolla মডেলের গাড়ির Car Maintenance Cost নিয়ে আলোচনা করা হবে।

Toyota Corolla মডেলের গাড়িতে ইঞ্জিন অয়েল লাগে ৪.৫ লিটার। Toyota অন্যান্য মডেলের গাড়িগুলোর ইঞ্জিন অয়েল সম্পর্কে জানতে এইখানে ক্লিক করুন।এখন আপনার গাড়ি যদি ৫,০০০ কিলোমিটার অতিক্রম করে তাহলে গাড়ির মোট অতিক্রান্ত দূরত্ব হিসেব করে 10w30 বা 20w50 যেকোন একটি গ্রেডের অয়েল ব্যবহার করবেন যার বাজারমূল্য লিটার প্রতি ২৫০-৩০০ টাকা। তাহলে ৫ লিটার অয়েলের দাম ১২৫০-১৫০০ টাকা।

অয়েল ফিল্টার

গাড়ির ইঞ্জিনে থাকা অয়েল যখন সার্কুলেশন করে তখন অয়েল ফিল্টার অয়েলের সাথে মিশে থাকা বালু বা ময়লা ছেঁকে অয়েলকে রিফাইন করে।ফলে ইঞ্জিন স্মুথলি কাজ করতে পারে।

অনেকে গাড়ির ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করার সময় অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করেন না। এক্ষেত্রে একটি সমস্যার সৃষ্টি হয়। পুরাতন অয়েল ফিল্টারে লেগে থাকা ময়লা নতুন অয়েলের সাথে মিশে নতুন অয়েলকে দূষিত করে। এই জন্যই যখন ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করবেন সাথে সাথে অয়েল ফিল্টার পরিবর্তন করবেন। 

Toyota Corolla মডেলের গাড়িতে ব্যবহৃত অয়েল ফিল্টারের মূল্য ৬০০-৭০০ টাকা।

এয়ার বা ইঞ্জিন ফিল্টার

গাড়ির ইঞ্জিনে অভ্যন্তরীণ কাজে বাতাসের প্রয়োজন হয়। এয়ার ফিল্টার এই বাতাসের সাথে মিশে থাকা ধূলাবালিকে ফিল্টার করে ইঞ্জিনের মধ্যে বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গাড়ি ১০,০০০ কিলোমিটার রান করার পর এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন করা দরকার। এভারেজে প্রতি ২ মাসে একবার এয়ার ফিল্টার পরিবর্তন করা ভালো। 

Toyota Corolla মডেলের গাড়িতে ব্যবহৃত এয়ার ফিল্টারের মূল্য ৮০০-১০০০ টাকা।

কেবিন বা এসি ফিল্টার

গাড়ির এসি থেকে যে ঠান্ডা বাতাস আসে কেবিন/ এসি ফিল্টার সেই বাতাসকে ফিল্টার করে আপনাকে বিশুদ্ধ বাতাস দেয়। এসি ফিল্টারে ধূলাবালি জমলে আপনার নাকে মুখে ধূলাবালি ঢুকে আপনি অসুস্থ হতে পারেন।মাঝে মাঝে এসি ফিল্টার খুলে পরিষ্কার করতে পারেন। যদি দেখেন ব্যবহার অনুপযোগী তাহলে নতুন একটি লাগিয়ে নিবেন। সাধারণত ৩ মাস পর পর এসি ফিল্টার পরিবর্তন করতে হয়।

Toyota Corolla মডেলের গাড়িতে ব্যবহৃত এসি ফিল্টারের মূল্য ৮০০-১০০০ টাকা।

গিয়ার অয়েলের/ট্রান্সমিশন অয়েল

গিয়ার অয়েল আপনার ট্রান্সমিশন মসৃণভাবে চালাতে সাহায্য করে। এটি আপনার গাড়ির গিয়ার সিস্টেমের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলিকে তাপের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তাকরে। সাধারনত গিয়ার অয়েল ৪০,০০০ কিঃমিঃ পরপর পরিবর্তন করা ভালো। 

Toyota Corolla মডেলের গাড়িতে গিয়ার অয়েলের ক্যাপাসিটি ৪ লিটার। গিয়ার অয়েল বেশি খারাফ হয়ে গেলে ৪ লিটার সম্পূর্ণ বের করে নতুন ৪ লিটার ঢুকাতে হয়।  যার বাজারমূল্য ৪,০০০ টাকা। যদি গাড়িতে গিয়ার অয়েলের মান মাঝামাঝি অবস্থায় থাকে তাহলে ২ লিটার বের করে নতুন ২ লিটার ঢালবেন।

ব্রেক অয়েল বা ফ্লুইড

১৫০ টাকা দিয়ে এক কৌটা ব্রেক অয়েল কিনলে ৩-৪ মাস চলে যাবে।

পাওয়ার স্টিয়ারিং অয়েল

পাওয়ার স্টিয়ারিং অয়েল হল হাইড্রোলিক তরল যা স্টিয়ারিং সিস্টেমের স্টিয়ারিং হুইল এবং সামনের চাকার মধ্যে একটি হাইড্রোলিক লিঙ্ক তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এটি চাকা ঘুরানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টার পরিমাণ হ্রাস করে। পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইড স্টিয়ারিং সিস্টেমের মধ্যে চলমান অংশগুলিকে লুব্রিকেট করে ফলে আপনাকে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হয়না। 

তবে বর্তমান আধুনিক মডেলের গাড়িগুলোতে  ইলেকট্রনিক পাওয়ার স্টিয়ারিং থাকাতে কোন তরল ব্যবহার করা হয়না তাই কোন কোন গাড়িতে পাওয়ার স্টিয়ারিং  ট্যাংক থাকেনা । সম্পুর্ন ইলেক্ট্রনিক সিস্টেম হওয়াতে কোনো ঝামেলা নেই।

এক কৌটা স্টিয়ারিং অয়েল ২-৩ মাস চলে যাবে যার মূল্য ২০০ টাকা।

রেডিয়েটর 

রেডিয়েটর একধরনের কুল্যান্ট বা অ্যান্টিফ্রিজ নামে পরিচিত। রেডিয়েটর গাড়ির ইঞ্জিনকে ঠান্ডা রাখে । উন্নত কোম্পানির রেডিয়েটরে ইথিনিল গ্লাইকলের উপস্থিতি থাকে। বাজারে লাল, সবুজ, পানি কালারের রেডিয়েটর পাওয়া যায়। কেউ কেউ খরচের কথা মাথায় রেখে রেডিয়েটর ট্যাংকে পানি ব্যবহার করেন।

১৫০ টাকা দিয়ে ৫ লিটার রেডিয়েটর কিনলে ১ মাস অনায়াসে চলে যাবে। আর আপনি যদি অরিজিনাল Toyota ব্র‍্যান্ডের ৫ লিটার রেডিয়েটর কিনেন তাহলে ১০০০ টাকা লাগবে।

কার ওয়াশিং এন্ড ওয়াশার ফ্লুইড

আপনি যদি ড্রাইভার নিয়োগ করেন তাহলে ড্রাইভারই গাড়ি  ওয়াশ করবে। অন্যথায় আপনাকে কার ওয়াশিং সার্ভিসের সাহায্য নিতে হবে। প্রতিবার ওয়াশ করার সময় আপনাকে ২০০-৩০০ টাকা গুনতে হবে।

WASHER FLUID/ওয়াইপার ট্যাংকে মুলত পানি থাকে। এই ট্যাংক থেকে পানি পাইপের সাহায্যে আপনার  গাড়ির উইন্ডশিল্ডকে (গাড়ির সামনের কাঁচ) পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা হয়। অনেকে এখানে শ্যাম্পু বা সাবানের পানি দিয়ে থাকে যা উইনশিল্ডে অনাকাঙ্খিত দাগ সৃষ্টি করে। তবে আপনি চাইলে পানির সাথে গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার করতে পারেন। ১০০ টাকা দিয়ে ১ লিটার গ্লাস ক্লিনার কিনলে অনায়াসে ১ মাস চলে যাবে। এছাড়া বর্তমানে বাজারে  উইন্ডশিল্ডকে পরিষ্কার করার জন্য কিছু ট্যাবলেট পাওয়া যায় যা আপনার গাড়ির উইন্ডশিল্ডের কোটিং ভালো ও পরিষ্কার রাখে।

ড্রাইভারের বেতন

নানবিদ কারণে আপনাকে ড্রাইভার নিয়োগ দেওয়া লাগতে পারে। ড্রাইভারের বেতন, খাওয়া ও বাসস্থান বাবদ মাসে কমপক্ষে ১৫,০০০ টাকা খরচ হবে।

গাড়ির বাৎসরিক ট্যাক্স 

প্রতি বছর গাড়ির ট্যাক্স বাবদ আপনাকে ২৫,০০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। যা প্রতি মাস হিসেব করলে প্রায় ২,১০০ টাকা হয়।

এছাড়া চাকার পাংচার মেরামত করা, চাকায় হাওয়া দেওয়া, টেকনিশিয়ান চার্জ বাবদ প্রতি মাসে ৫০০ টাকা খরচ হবে।

Car Maintenance Cost সম্পর্কে এই পোস্টটি কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাবেন। Toyota Corolla মডেলের গাড়ি ব্যাতিত অন্য কোন মডেলের গাড়ির মেইনটেইনান্স কস্ট জানতে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।